📖 সূরা ভিউ
As-Saaffaat سُورَةُ الصَّافَّاتِ
এই সূরার সকল আয়াত বাংলা অর্থসহ নিচে দেখানো হলো
আয়াত 1
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِیمِ وَٱلصَّـٰۤفَّـٰتِ صَفࣰّا
শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো,
আয়াত 2
فَٱلزَّ ٰجِرَ ٰتِ زَجۡرࣰا
অতঃপর ধমকিয়ে ভীতি প্রদর্শনকারীদের,
আয়াত 3
فَٱلتَّـٰلِیَـٰتِ ذِكۡرًا
অতঃপর মুখস্থ আবৃত্তিকারীদের-
আয়াত 4
إِنَّ إِلَـٰهَكُمۡ لَوَ ٰحِدࣱ
নিশ্চয় তোমাদের মাবুদ এক।
আয়াত 5
رَّبُّ ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَیۡنَهُمَا وَرَبُّ ٱلۡمَشَـٰرِقِ
তিনি আসমান সমূহ, যমীনও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচলসমূহের।
আয়াত 6
إِنَّا زَیَّنَّا ٱلسَّمَاۤءَ ٱلدُّنۡیَا بِزِینَةٍ ٱلۡكَوَاكِبِ
নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি।
আয়াত 7
وَحِفۡظࣰا مِّن كُلِّ شَیۡطَـٰنࣲ مَّارِدࣲ
এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে।
আয়াত 8
لَّا یَسَّمَّعُونَ إِلَى ٱلۡمَلَإِ ٱلۡأَعۡلَىٰ وَیُقۡذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبࣲ
ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়।
আয়াত 9
دُحُورࣰاۖ وَلَهُمۡ عَذَابࣱ وَاصِبٌ
ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি।
আয়াত 10
إِلَّا مَنۡ خَطِفَ ٱلۡخَطۡفَةَ فَأَتۡبَعَهُۥ شِهَابࣱ ثَاقِبࣱ
তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
আয়াত 11
فَٱسۡتَفۡتِهِمۡ أَهُمۡ أَشَدُّ خَلۡقًا أَم مَّنۡ خَلَقۡنَاۤۚ إِنَّا خَلَقۡنَـٰهُم مِّن طِینࣲ لَّازِبِۭ
আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি? আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।
আয়াত 12
بَلۡ عَجِبۡتَ وَیَسۡخَرُونَ
বরং আপনি বিস্ময় বোধ করেন আর তারা বিদ্রুপ করে।
আয়াত 13
وَإِذَا ذُكِّرُوا۟ لَا یَذۡكُرُونَ
যখন তাদেরকে বোঝানো হয়, তখন তারা বোঝে না।
আয়াত 14
وَإِذَا رَأَوۡا۟ ءَایَةࣰ یَسۡتَسۡخِرُونَ
তারা যখন কোন নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রূপ করে।
আয়াত 15
وَقَالُوۤا۟ إِنۡ هَـٰذَاۤ إِلَّا سِحۡرࣱ مُّبِینٌ
এবং বলে, কিছুই নয়, এযে স্পষ্ট যাদু।
আয়াত 16
أَءِذَا مِتۡنَا وَكُنَّا تُرَابࣰا وَعِظَـٰمًا أَءِنَّا لَمَبۡعُوثُونَ
আমরা যখন মরে যাব, এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?
আয়াত 17
أَوَءَابَاۤؤُنَا ٱلۡأَوَّلُونَ
আমাদের পিতৃপুরুষগণও কি?
আয়াত 18
قُلۡ نَعَمۡ وَأَنتُمۡ دَ ٰخِرُونَ
বলুন, হ্যাঁ এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত।
আয়াত 19
فَإِنَّمَا هِیَ زَجۡرَةࣱ وَ ٰحِدَةࣱ فَإِذَا هُمۡ یَنظُرُونَ
বস্তুতঃ সে উত্থান হবে একটি বিকট শব্দ মাত্র-যখন তারা প্রত্যক্ষ করতে থাকবে।
আয়াত 20
وَقَالُوا۟ یَـٰوَیۡلَنَا هَـٰذَا یَوۡمُ ٱلدِّینِ
এবং বলবে, দুর্ভাগ্য আমাদের! এটাই তো প্রতিফল দিবস।
আয়াত 21
هَـٰذَا یَوۡمُ ٱلۡفَصۡلِ ٱلَّذِی كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ
বলা হবে, এটাই ফয়সালার দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে।
আয়াত 22
۞ ٱحۡشُرُوا۟ ٱلَّذِینَ ظَلَمُوا۟ وَأَزۡوَ ٰجَهُمۡ وَمَا كَانُوا۟ یَعۡبُدُونَ
একত্রিত কর গোনাহগারদেরকে, তাদের দোসরদেরকে এবং যাদের এবাদত তারা করত।
আয়াত 23
مِن دُونِ ٱللَّهِ فَٱهۡدُوهُمۡ إِلَىٰ صِرَ ٰطِ ٱلۡجَحِیمِ
আল্লাহ ব্যতীত। অতঃপর তাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের পথে,
আয়াত 24
وَقِفُوهُمۡۖ إِنَّهُم مَّسۡـُٔولُونَ
এবং তাদেরকে থামাও, তারা জিজ্ঞাসিত হবে;
আয়াত 25
مَا لَكُمۡ لَا تَنَاصَرُونَ
তোমাদের কি হল যে, তোমরা একে অপরের সাহায্য করছ না?
আয়াত 26
بَلۡ هُمُ ٱلۡیَوۡمَ مُسۡتَسۡلِمُونَ
বরং তারা আজকের দিনে আত্নসমর্পণকারী।
আয়াত 27
وَأَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضࣲ یَتَسَاۤءَلُونَ
তারা একে অপরের দিকে মুখ করে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
আয়াত 28
قَالُوۤا۟ إِنَّكُمۡ كُنتُمۡ تَأۡتُونَنَا عَنِ ٱلۡیَمِینِ
বলবে, তোমরা তো আমাদের কাছে ডান দিক থেকে আসতে।
আয়াত 29
قَالُوا۟ بَل لَّمۡ تَكُونُوا۟ مُؤۡمِنِینَ
তারা বলবে, বরং তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না।
আয়াত 30
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَیۡكُم مِّن سُلۡطَـٰنِۭۖ بَلۡ كُنتُمۡ قَوۡمࣰا طَـٰغِینَ
এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কতৃত্ব ছিল না, বরং তোমরাই ছিলে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
আয়াত 31
فَحَقَّ عَلَیۡنَا قَوۡلُ رَبِّنَاۤۖ إِنَّا لَذَاۤىِٕقُونَ
আমাদের বিপক্ষে আমাদের পালনকর্তার উক্তিই সত্য হয়েছে। আমাদেরকে অবশই স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।
আয়াত 32
فَأَغۡوَیۡنَـٰكُمۡ إِنَّا كُنَّا غَـٰوِینَ
আমরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম। কারণ আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট ছিলাম।
আয়াত 33
فَإِنَّهُمۡ یَوۡمَىِٕذࣲ فِی ٱلۡعَذَابِ مُشۡتَرِكُونَ
তারা সবাই সেদিন শান্তিতে শরীক হবে।
আয়াত 34
إِنَّا كَذَ ٰلِكَ نَفۡعَلُ بِٱلۡمُجۡرِمِینَ
অপরাধীদের সাথে আমি এমনি ব্যবহার করে থাকি।
আয়াত 35
إِنَّهُمۡ كَانُوۤا۟ إِذَا قِیلَ لَهُمۡ لَاۤ إِلَـٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ یَسۡتَكۡبِرُونَ
তাদের যখন বলা হত, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য েনই, তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত।
আয়াত 36
وَیَقُولُونَ أَىِٕنَّا لَتَارِكُوۤا۟ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرࣲ مَّجۡنُونِۭ
এবং বলত, আমরা কি এক উম্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব।
আয়াত 37
بَلۡ جَاۤءَ بِٱلۡحَقِّ وَصَدَّقَ ٱلۡمُرۡسَلِینَ
না, তিনি সত্যসহ আগমন করেছেন এবং রসূলগণের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
আয়াত 38
إِنَّكُمۡ لَذَاۤىِٕقُوا۟ ٱلۡعَذَابِ ٱلۡأَلِیمِ
তোমরা অবশ্যই বেদনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করবে।
আয়াত 39
وَمَا تُجۡزَوۡنَ إِلَّا مَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ
তোমরা যা করতে, তারই প্রতিফল পাবে।
আয়াত 40
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلۡمُخۡلَصِینَ
তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর বাছাই করা বান্দা।
আয়াত 41
أُو۟لَـٰۤىِٕكَ لَهُمۡ رِزۡقࣱ مَّعۡلُومࣱ
তাদের জন্যে রয়েছে নির্ধারিত রুযি।
আয়াত 42
فَوَ ٰكِهُ وَهُم مُّكۡرَمُونَ
ফল-মূল এবং তারা সম্মানিত।
আয়াত 43
فِی جَنَّـٰتِ ٱلنَّعِیمِ
নেয়ামতের উদ্যানসমূহ।
আয়াত 44
عَلَىٰ سُرُرࣲ مُّتَقَـٰبِلِینَ
মুখোমুখি হয়ে আসনে আসীন।
আয়াত 45
یُطَافُ عَلَیۡهِم بِكَأۡسࣲ مِّن مَّعِینِۭ
তাদেরকে ঘুরে ফিরে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ পানপাত্র।
আয়াত 46
بَیۡضَاۤءَ لَذَّةࣲ لِّلشَّـٰرِبِینَ
সুশুভ্র, যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু।
আয়াত 47
لَا فِیهَا غَوۡلࣱ وَلَا هُمۡ عَنۡهَا یُنزَفُونَ
তাতে মাথা ব্যথার উপাদান নেই এবং তারা তা পান করে মাতালও হবে না।
আয়াত 48
وَعِندَهُمۡ قَـٰصِرَ ٰتُ ٱلطَّرۡفِ عِینࣱ
তাদের কাছে থাকবে নত, আয়তলোচনা তরুণীগণ।
আয়াত 49
كَأَنَّهُنَّ بَیۡضࣱ مَّكۡنُونࣱ
যেন তারা সুরক্ষিত ডিম।
আয়াত 50
فَأَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضࣲ یَتَسَاۤءَلُونَ
অতঃপর তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
আয়াত 51
قَالَ قَاۤىِٕلࣱ مِّنۡهُمۡ إِنِّی كَانَ لِی قَرِینࣱ
তাদের একজন বলবে, আমার এক সঙ্গী ছিল।
আয়াত 52
یَقُولُ أَءِنَّكَ لَمِنَ ٱلۡمُصَدِّقِینَ
সে বলত, তুমি কি বিশ্বাস কর যে,
আয়াত 53
أَءِذَا مِتۡنَا وَكُنَّا تُرَابࣰا وَعِظَـٰمًا أَءِنَّا لَمَدِینُونَ
আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফল প্রাপ্ত হব?
আয়াত 54
قَالَ هَلۡ أَنتُم مُّطَّلِعُونَ
আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি তাকে উকি দিয়ে দেখতে চাও?
আয়াত 55
فَٱطَّلَعَ فَرَءَاهُ فِی سَوَاۤءِ ٱلۡجَحِیمِ
অপর সে উকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে।
আয়াত 56
قَالَ تَٱللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرۡدِینِ
সে বলবে, আল্লাহর কসম, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে।
আয়াত 57
وَلَوۡلَا نِعۡمَةُ رَبِّی لَكُنتُ مِنَ ٱلۡمُحۡضَرِینَ
আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ না হলে আমিও যে গ্রেফতারকৃতদের সাথেই উপস্থিত হতাম।
আয়াত 58
أَفَمَا نَحۡنُ بِمَیِّتِینَ
এখন আমাদের আর মৃত্যু হবে না।
আয়াত 59
إِلَّا مَوۡتَتَنَا ٱلۡأُولَىٰ وَمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِینَ
আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমরা শাস্তি প্রাপ্তও হব না।
আয়াত 60
إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِیمُ
নিশ্চয় এই মহা সাফল্য।
আয়াত 61
لِمِثۡلِ هَـٰذَا فَلۡیَعۡمَلِ ٱلۡعَـٰمِلُونَ
এমন সাফল্যের জন্যে পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত।
আয়াত 62
أَذَ ٰلِكَ خَیۡرࣱ نُّزُلًا أَمۡ شَجَرَةُ ٱلزَّقُّومِ
এই কি উত্তম আপ্যায়ন, না যাক্কুম বৃক্ষ?
আয়াত 63
إِنَّا جَعَلۡنَـٰهَا فِتۡنَةࣰ لِّلظَّـٰلِمِینَ
আমি যালেমদের জন্যে একে বিপদ করেছি।
আয়াত 64
إِنَّهَا شَجَرَةࣱ تَخۡرُجُ فِیۤ أَصۡلِ ٱلۡجَحِیمِ
এটি একটি বৃক্ষ, যা উদগত হয় জাহান্নামের মূলে।
আয়াত 65
طَلۡعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّیَـٰطِینِ
এর গুচ্ছ শয়তানের মস্তকের মত।
আয়াত 66
فَإِنَّهُمۡ لَـَٔاكِلُونَ مِنۡهَا فَمَالِـُٔونَ مِنۡهَا ٱلۡبُطُونَ
কাফেররা একে ভক্ষণ করবে এবং এর দ্বারা উদর পূর্ণ করবে।
আয়াত 67
ثُمَّ إِنَّ لَهُمۡ عَلَیۡهَا لَشَوۡبࣰا مِّنۡ حَمِیمࣲ
তদুপরি তাদেরকে দেয়া হবে। ফুটন্ত পানির মিশ্রণ,
আয়াত 68
ثُمَّ إِنَّ مَرۡجِعَهُمۡ لَإِلَى ٱلۡجَحِیمِ
অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের দিকে।
আয়াত 69
إِنَّهُمۡ أَلۡفَوۡا۟ ءَابَاۤءَهُمۡ ضَاۤلِّینَ
তারা তাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছিল বিপথগামী।
আয়াত 70
فَهُمۡ عَلَىٰۤ ءَاثَـٰرِهِمۡ یُهۡرَعُونَ
অতঃপর তারা তদের পদাংক অনুসরণে তৎপর ছিল।
আয়াত 71
وَلَقَدۡ ضَلَّ قَبۡلَهُمۡ أَكۡثَرُ ٱلۡأَوَّلِینَ
তাদের পূর্বেও অগ্রবর্তীদের অধিকাংশ বিপথগামী হয়েছিল।
আয়াত 72
وَلَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا فِیهِم مُّنذِرِینَ
আমি তাদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শনকারী প্রেরণ করেছিলাম।
আয়াত 73
فَٱنظُرۡ كَیۡفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلۡمُنذَرِینَ
অতএব লক্ষ্য করুন, যাদেরকে ভীতিপ্রদর্শণ করা হয়েছিল, তাদের পরিণতি কি হয়েছে।
আয়াত 74
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلۡمُخۡلَصِینَ
তবে আল্লাহর বাছাই করা বান্দাদের কথা ভিন্ন।
আয়াত 75
وَلَقَدۡ نَادَىٰنَا نُوحࣱ فَلَنِعۡمَ ٱلۡمُجِیبُونَ
আর নূহ আমাকে ডেকেছিল। আর কি চমৎকারভাবে আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম।
আয়াত 76
وَنَجَّیۡنَـٰهُ وَأَهۡلَهُۥ مِنَ ٱلۡكَرۡبِ ٱلۡعَظِیمِ
আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে এক মহাসংকট থেকে রক্ষা করেছিলাম।
আয়াত 77
وَجَعَلۡنَا ذُرِّیَّتَهُۥ هُمُ ٱلۡبَاقِینَ
এবং তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম।
আয়াত 78
وَتَرَكۡنَا عَلَیۡهِ فِی ٱلۡـَٔاخِرِینَ
আমি তার জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে,
আয়াত 79
سَلَـٰمٌ عَلَىٰ نُوحࣲ فِی ٱلۡعَـٰلَمِینَ
বিশ্ববাসীর মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
আয়াত 80
إِنَّا كَذَ ٰلِكَ نَجۡزِی ٱلۡمُحۡسِنِینَ
আমি এভাবেই সৎকর্ম পরায়নদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
আয়াত 81
إِنَّهُۥ مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُؤۡمِنِینَ
সে ছিল আমার ঈমানদার বান্দাদের অন্যতম।
আয়াত 82
ثُمَّ أَغۡرَقۡنَا ٱلۡـَٔاخَرِینَ
অতঃপর আমি অপরাপর সবাইকে নিমজ্জত করেছিলাম।
আয়াত 83
۞ وَإِنَّ مِن شِیعَتِهِۦ لَإِبۡرَ ٰهِیمَ
আর নূহ পন্থীদেরই একজন ছিল ইব্রাহীম।
আয়াত 84
إِذۡ جَاۤءَ رَبَّهُۥ بِقَلۡبࣲ سَلِیمٍ
যখন সে তার পালনকর্তার নিকট সুষ্ঠু চিত্তে উপস্থিত হয়েছিল,
আয়াত 85
إِذۡ قَالَ لِأَبِیهِ وَقَوۡمِهِۦ مَاذَا تَعۡبُدُونَ
যখন সে তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা কিসের উপাসনা করছ?
আয়াত 86
أَىِٕفۡكًا ءَالِهَةࣰ دُونَ ٱللَّهِ تُرِیدُونَ
তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত মিথ্যা উপাস্য কামনা করছ?
আয়াত 87
فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ ٱلۡعَـٰلَمِینَ
বিশ্বজগতের পালনকর্তা সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি?
আয়াত 88
فَنَظَرَ نَظۡرَةࣰ فِی ٱلنُّجُومِ
অতঃপর সে একবার তারকাদের প্রতি লক্ষ্য করল।
আয়াত 89
فَقَالَ إِنِّی سَقِیمࣱ
এবং বললঃ আমি পীড়িত।
আয়াত 90
فَتَوَلَّوۡا۟ عَنۡهُ مُدۡبِرِینَ
অতঃপর তারা তার প্রতি পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল।
আয়াত 91
فَرَاغَ إِلَىٰۤ ءَالِهَتِهِمۡ فَقَالَ أَلَا تَأۡكُلُونَ
অতঃপর সে তাদের দেবালয়ে, গিয়ে ঢুকল এবং বললঃ তোমরা খাচ্ছ না কেন?
আয়াত 92
مَا لَكُمۡ لَا تَنطِقُونَ
তোমাদের কি হল যে, কথা বলছ না?
আয়াত 93
فَرَاغَ عَلَیۡهِمۡ ضَرۡبَۢا بِٱلۡیَمِینِ
অতঃপর সে প্রবল আঘাতে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
আয়াত 94
فَأَقۡبَلُوۤا۟ إِلَیۡهِ یَزِفُّونَ
তখন লোকজন তার দিকে ছুটে এলো ভীত-সন্ত্রস্ত পদে।
আয়াত 95
قَالَ أَتَعۡبُدُونَ مَا تَنۡحِتُونَ
সে বললঃ তোমরা স্বহস্ত নির্মিত পাথরের পূজা কর কেন?
আয়াত 96
وَٱللَّهُ خَلَقَكُمۡ وَمَا تَعۡمَلُونَ
অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা নির্মাণ করছ সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।
আয়াত 97
قَالُوا۟ ٱبۡنُوا۟ لَهُۥ بُنۡیَـٰنࣰا فَأَلۡقُوهُ فِی ٱلۡجَحِیمِ
তারা বললঃ এর জন্যে একটি ভিত নির্মাণ কর এবং অতঃপর তাকে আগুনের স্তুপে নিক্ষেপ কর।
আয়াত 98
فَأَرَادُوا۟ بِهِۦ كَیۡدࣰا فَجَعَلۡنَـٰهُمُ ٱلۡأَسۡفَلِینَ
তারপর তারা তার বিরুদ্ধে মহা ষড়যন্ত্র আঁটতে চাইল, কিন্তু আমি তাদেরকেই পরাভূত করে দিলাম।
আয়াত 99
وَقَالَ إِنِّی ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّی سَیَهۡدِینِ
সে বললঃ আমি আমার পালনকর্তার দিকে চললাম, তিনি আমাকে পথপ্রদর্শন করবেন।
আয়াত 100
رَبِّ هَبۡ لِی مِنَ ٱلصَّـٰلِحِینَ
হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎপুত্র দান কর।
আয়াত 101
فَبَشَّرۡنَـٰهُ بِغُلَـٰمٍ حَلِیمࣲ
সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।
আয়াত 102
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعۡیَ قَالَ یَـٰبُنَیَّ إِنِّیۤ أَرَىٰ فِی ٱلۡمَنَامِ أَنِّیۤ أَذۡبَحُكَ فَٱنظُرۡ مَاذَا تَرَىٰۚ قَالَ یَـٰۤأَبَتِ ٱفۡعَلۡ مَا تُؤۡمَرُۖ سَتَجِدُنِیۤ إِن شَاۤءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّـٰبِرِینَ
অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।
আয়াত 103
فَلَمَّاۤ أَسۡلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلۡجَبِینِ
যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল।
আয়াত 104
وَنَـٰدَیۡنَـٰهُ أَن یَـٰۤإِبۡرَ ٰهِیمُ
তখন আমি তাকে ডেকে বললামঃ হে ইব্রাহীম,
আয়াত 105
قَدۡ صَدَّقۡتَ ٱلرُّءۡیَاۤۚ إِنَّا كَذَ ٰلِكَ نَجۡزِی ٱلۡمُحۡسِنِینَ
তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
আয়াত 106
إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ ٱلۡبَلَـٰۤؤُا۟ ٱلۡمُبِینُ
নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
আয়াত 107
وَفَدَیۡنَـٰهُ بِذِبۡحٍ عَظِیمࣲ
আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু।
আয়াত 108
وَتَرَكۡنَا عَلَیۡهِ فِی ٱلۡـَٔاخِرِینَ
আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে,
আয়াত 109
سَلَـٰمٌ عَلَىٰۤ إِبۡرَ ٰهِیمَ
ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
আয়াত 110
كَذَ ٰلِكَ نَجۡزِی ٱلۡمُحۡسِنِینَ
এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
আয়াত 111
إِنَّهُۥ مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُؤۡمِنِینَ
সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের একজন।
আয়াত 112
وَبَشَّرۡنَـٰهُ بِإِسۡحَـٰقَ نَبِیࣰّا مِّنَ ٱلصَّـٰلِحِینَ
আমি তাকে সুসংবাদ দিয়েছি ইসহাকের, সে সৎকর্মীদের মধ্য থেকে একজন নবী।
আয়াত 113
وَبَـٰرَكۡنَا عَلَیۡهِ وَعَلَىٰۤ إِسۡحَـٰقَۚ وَمِن ذُرِّیَّتِهِمَا مُحۡسِنࣱ وَظَالِمࣱ لِّنَفۡسِهِۦ مُبِینࣱ
তাকে এবং ইসহাককে আমি বরকত দান করেছি। তাদের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মী এবং কতক নিজেদের উপর স্পষ্ট জুলুমকারী।
আয়াত 114
وَلَقَدۡ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَـٰرُونَ
আমি অনুগ্রহ করেছিলাম মূসা ও হারুনের প্রতি।
আয়াত 115
وَنَجَّیۡنَـٰهُمَا وَقَوۡمَهُمَا مِنَ ٱلۡكَرۡبِ ٱلۡعَظِیمِ
তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে উদ্ধার করেছি মহা সংকট থেকে।
আয়াত 116
وَنَصَرۡنَـٰهُمۡ فَكَانُوا۟ هُمُ ٱلۡغَـٰلِبِینَ
আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই ছিল বিজয়ী।
আয়াত 117
وَءَاتَیۡنَـٰهُمَا ٱلۡكِتَـٰبَ ٱلۡمُسۡتَبِینَ
আমি উভয়কে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট কিতাব।
আয়াত 118
وَهَدَیۡنَـٰهُمَا ٱلصِّرَ ٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِیمَ
এবং তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করেছিলাম।
আয়াত 119
وَتَرَكۡنَا عَلَیۡهِمَا فِی ٱلۡـَٔاخِرِینَ
আমি তাদের জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে,
আয়াত 120
سَلَـٰمٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَـٰرُونَ
মূসা ও হারুনের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
আয়াত 121
إِنَّا كَذَ ٰلِكَ نَجۡزِی ٱلۡمُحۡسِنِینَ
এভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
আয়াত 122
إِنَّهُمَا مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُؤۡمِنِینَ
তারা উভয়েই ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্যতম।
আয়াত 123
وَإِنَّ إِلۡیَاسَ لَمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِینَ
নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল রসূল।
আয়াত 124
إِذۡ قَالَ لِقَوۡمِهِۦۤ أَلَا تَتَّقُونَ
যখন সে তার সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি ভয় কর না ?
আয়াত 125
أَتَدۡعُونَ بَعۡلࣰا وَتَذَرُونَ أَحۡسَنَ ٱلۡخَـٰلِقِینَ
তোমরা কি বা’আল দেবতার এবাদত করবে এবং সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করবে।
আয়াত 126
ٱللَّهَ رَبَّكُمۡ وَرَبَّ ءَابَاۤىِٕكُمُ ٱلۡأَوَّلِینَ
যিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনকর্তা?
আয়াত 127
فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمۡ لَمُحۡضَرُونَ
অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অতএব তারা অবশ্যই গ্রেফতার হয়ে আসবে।
আয়াত 128
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلۡمُخۡلَصِینَ
কিন্তু আল্লাহ তা’আলার খাঁটি বান্দাগণ নয়।
আয়াত 129
وَتَرَكۡنَا عَلَیۡهِ فِی ٱلۡـَٔاخِرِینَ
আমি তার জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয়ে রেখে দিয়েছি যে,
আয়াত 130
سَلَـٰمٌ عَلَىٰۤ إِلۡ یَاسِینَ
ইলিয়াসের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক!
আয়াত 131
إِنَّا كَذَ ٰلِكَ نَجۡزِی ٱلۡمُحۡسِنِینَ
এভাবেই আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
আয়াত 132
إِنَّهُۥ مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُؤۡمِنِینَ
সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত।
আয়াত 133
وَإِنَّ لُوطࣰا لَّمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِینَ
নিশ্চয় লূত ছিলেন রসূলগণের একজন।
আয়াত 134
إِذۡ نَجَّیۡنَـٰهُ وَأَهۡلَهُۥۤ أَجۡمَعِینَ
যখন আমি তাকেও তার পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করেছিলাম;
আয়াত 135
إِلَّا عَجُوزࣰا فِی ٱلۡغَـٰبِرِینَ
কিন্তু এক বৃদ্ধাকে ছাড়া; সে অন্যান্যদের সঙ্গে থেকে গিয়েছিল।
আয়াত 136
ثُمَّ دَمَّرۡنَا ٱلۡـَٔاخَرِینَ
অতঃপর অবশিষ্টদেরকে আমি সমূলে উৎপাটিত করেছিলাম।
আয়াত 137
وَإِنَّكُمۡ لَتَمُرُّونَ عَلَیۡهِم مُّصۡبِحِینَ
তোমরা তোমাদের ধ্বংস স্তুপের উপর দিয়ে গমন কর ভোর বেলায়
আয়াত 138
وَبِٱلَّیۡلِۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ
এবং সন্ধ্যায়, তার পরেও কি তোমরা বোঝ না?
আয়াত 139
وَإِنَّ یُونُسَ لَمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِینَ
আর ইউনুসও ছিলেন পয়গম্বরগণের একজন।
আয়াত 140
إِذۡ أَبَقَ إِلَى ٱلۡفُلۡكِ ٱلۡمَشۡحُونِ
যখন পালিয়ে তিনি বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন।
আয়াত 141
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ ٱلۡمُدۡحَضِینَ
অতঃপর লটারী (সুরতি) করালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন।
আয়াত 142
فَٱلۡتَقَمَهُ ٱلۡحُوتُ وَهُوَ مُلِیمࣱ
অতঃপর একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলল, তখন তিনি অপরাধী গণ্য হয়েছিলেন।
আয়াত 143
فَلَوۡلَاۤ أَنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلۡمُسَبِّحِینَ
যদি তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ না করতেন,
আয়াত 144
لَلَبِثَ فِی بَطۡنِهِۦۤ إِلَىٰ یَوۡمِ یُبۡعَثُونَ
তবে তাঁকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।
আয়াত 145
۞ فَنَبَذۡنَـٰهُ بِٱلۡعَرَاۤءِ وَهُوَ سَقِیمࣱ
অতঃপর আমি তাঁকে এক বিস্তীর্ণ-বিজন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম, তখন তিনি ছিলেন রুগ্ন।
আয়াত 146
وَأَنۢبَتۡنَا عَلَیۡهِ شَجَرَةࣰ مِّن یَقۡطِینࣲ
আমি তাঁর উপর এক লতাবিশিষ্ট বৃক্ষ উদগত করলাম।
আয়াত 147
وَأَرۡسَلۡنَـٰهُ إِلَىٰ مِا۟ئَةِ أَلۡفٍ أَوۡ یَزِیدُونَ
এবং তাঁকে, লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করলাম।
আয়াত 148
فَـَٔامَنُوا۟ فَمَتَّعۡنَـٰهُمۡ إِلَىٰ حِینࣲ
তারা বিশ্বাস স্থাপন করল অতঃপর আমি তাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জীবনোপভোগ করতে দিলাম।
আয়াত 149
فَٱسۡتَفۡتِهِمۡ أَلِرَبِّكَ ٱلۡبَنَاتُ وَلَهُمُ ٱلۡبَنُونَ
এবার তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তোমার পালনকর্তার জন্যে কি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং তাদের জন্যে কি পুত্র-সন্তান।
আয়াত 150
أَمۡ خَلَقۡنَا ٱلۡمَلَـٰۤىِٕكَةَ إِنَـٰثࣰا وَهُمۡ شَـٰهِدُونَ
না কি আমি তাদের উপস্থিতিতে ফেরেশতাগণকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছি?
আয়াত 151
أَلَاۤ إِنَّهُم مِّنۡ إِفۡكِهِمۡ لَیَقُولُونَ
জেনো, তারা মনগড়া উক্তি করে যে,
আয়াত 152
وَلَدَ ٱللَّهُ وَإِنَّهُمۡ لَكَـٰذِبُونَ
আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।
আয়াত 153
أَصۡطَفَى ٱلۡبَنَاتِ عَلَى ٱلۡبَنِینَ
তিনি কি পুত্র-সন্তানের স্থলে কন্যা-সন্তান পছন্দ করেছেন?
আয়াত 154
مَا لَكُمۡ كَیۡفَ تَحۡكُمُونَ
তোমাদের কি হল? তোমাদের এ কেমন সিন্ধান্ত?
আয়াত 155
أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
তোমরা কি অনুধাবন কর না?
আয়াত 156
أَمۡ لَكُمۡ سُلۡطَـٰنࣱ مُّبِینࣱ
না কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোন দলীল রয়েছে?
আয়াত 157
فَأۡتُوا۟ بِكِتَـٰبِكُمۡ إِن كُنتُمۡ صَـٰدِقِینَ
তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব আন।
আয়াত 158
وَجَعَلُوا۟ بَیۡنَهُۥ وَبَیۡنَ ٱلۡجِنَّةِ نَسَبࣰاۚ وَلَقَدۡ عَلِمَتِ ٱلۡجِنَّةُ إِنَّهُمۡ لَمُحۡضَرُونَ
তারা আল্লাহ ও জ্বিনদের মধ্যে সম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে।
আয়াত 159
سُبۡحَـٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا یَصِفُونَ
তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।
আয়াত 160
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلۡمُخۡلَصِینَ
তবে যারা আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দা, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে না।
আয়াত 161
فَإِنَّكُمۡ وَمَا تَعۡبُدُونَ
অতএব তোমরা এবং তোমরা যাদের উপাসনা কর,
আয়াত 162
مَاۤ أَنتُمۡ عَلَیۡهِ بِفَـٰتِنِینَ
তাদের কাউকেই তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
আয়াত 163
إِلَّا مَنۡ هُوَ صَالِ ٱلۡجَحِیمِ
শুধুমাত্র তাদের ছাড়া যারা জাহান্নামে পৌছাবে।
আয়াত 164
وَمَا مِنَّاۤ إِلَّا لَهُۥ مَقَامࣱ مَّعۡلُومࣱ
আমাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট স্থান।
আয়াত 165
وَإِنَّا لَنَحۡنُ ٱلصَّاۤفُّونَ
এবং আমরাই সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান থাকি।
আয়াত 166
وَإِنَّا لَنَحۡنُ ٱلۡمُسَبِّحُونَ
এবং আমরাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি।
আয়াত 167
وَإِن كَانُوا۟ لَیَقُولُونَ
তারা তো বলতঃ
আয়াত 168
لَوۡ أَنَّ عِندَنَا ذِكۡرࣰا مِّنَ ٱلۡأَوَّلِینَ
যদি আমাদের কাছে পূর্ববর্তীদের কোন উপদেশ থাকত,
আয়াত 169
لَكُنَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلۡمُخۡلَصِینَ
তবে আমরা অবশ্যই আল্লাহর মনোনীত বান্দা হতাম।
আয়াত 170
فَكَفَرُوا۟ بِهِۦۖ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُونَ
বস্তুতঃ তারা এই কোরআনকে অস্বীকার করেছে। এখন শীঘ্রই তারা জেনে নিতে পারবে,
আয়াত 171
وَلَقَدۡ سَبَقَتۡ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا ٱلۡمُرۡسَلِینَ
আমার রাসূল ও বান্দাগণের ব্যাপারে আমার এই বাক্য সত্য হয়েছে যে,
আয়াত 172
إِنَّهُمۡ لَهُمُ ٱلۡمَنصُورُونَ
অবশ্যই তারা সাহায্য প্রাপ্ত হয়।
আয়াত 173
وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ ٱلۡغَـٰلِبُونَ
আর আমার বাহিনীই হয় বিজয়ী।
আয়াত 174
فَتَوَلَّ عَنۡهُمۡ حَتَّىٰ حِینࣲ
অতএব আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
আয়াত 175
وَأَبۡصِرۡهُمۡ فَسَوۡفَ یُبۡصِرُونَ
এবং তাদেরকে দেখতে থাকুন। শীঘ্রই তারাও এর পরিণাম দেখে নেবে।
আয়াত 176
أَفَبِعَذَابِنَا یَسۡتَعۡجِلُونَ
আমার আযাব কি তারা দ্রুত কামনা করে?
আয়াত 177
فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمۡ فَسَاۤءَ صَبَاحُ ٱلۡمُنذَرِینَ
অতঃপর যখন তাদের আঙ্গিনায় আযাব নাযিল হবে, তখন যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের সকাল বেলাটি হবে খুবই মন্দ।
আয়াত 178
وَتَوَلَّ عَنۡهُمۡ حَتَّىٰ حِینࣲ
আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
আয়াত 179
وَأَبۡصِرۡ فَسَوۡفَ یُبۡصِرُونَ
এবং দেখতে থাকুন, শীঘ্রই তারাও এর পরিণাম দেখে নেবে।
আয়াত 180
سُبۡحَـٰنَ رَبِّكَ رَبِّ ٱلۡعِزَّةِ عَمَّا یَصِفُونَ
পবিত্র আপনার পরওয়ারদেগারের সত্তা, তিনি সম্মানিত ও পবিত্র যা তারা বর্ণনা করে তা থেকে।
আয়াত 181
وَسَلَـٰمٌ عَلَى ٱلۡمُرۡسَلِینَ
পয়গম্বরগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
আয়াত 182
وَٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَـٰلَمِینَ
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর নিমিত্ত।